সাদ্দামের মায়ের আক্ষেপ বাড়ি এসে দেখবে বৌ-ছেলের কবর, এ জামিন দিয়ে কী হবে
বাগেরহাট স্ত্রী ও সন্তানহারা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের জামিনেও তেমন উচ্ছ্বাস নেই পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। সাদ্দামের মা দেলোয়ারা আক্ষেপ করে বলেছেন, জামিন হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে বৌ-ছেলের কবর, তাহলে এ জামিন দিয়ে কী হবে?
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাগেরহাটে স্ত্রী-সন্তান হারানো নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ এ জামিন আদেশ দেন।
আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, ‘আদালত মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামকে জামিন দিয়েছেন।’
সরেজমিনে সাদ্দামের বাড়ি গিয়ে জানা গেছে, সাদ্দামের জামিনে উচ্ছ্বাস নেই পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। স্বজনদের দাবি স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হল না, কিন্তু এখন জামিন দিয়ে কি হবে।
তারপরও রাষ্ট্র জামিন দিয়েছে ভালো হয়েছে উল্লেখ করে সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন, ‘আমি এখন কী বলব, জামিন হয়েছে, আগেও জামিন চেয়েছি। আগে কয়েকবার জামিন হয়েছে কিন্তু বের হতে পারেনি। এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া সমান কথা। তারপরও জামিন হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে বউয়ের কবর, তাহলে এই জামিন দিয়ে কী হবে।’
সাদ্দামের শ্বশুর জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন বলেন, ‘সাদ্দামের জামিন হয়েছে এতে আমি সন্তোষ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি প্যারোলে জামিন চেয়েছিল, সেই জামিন না দেয়া অমানবিক না মানবিক কাজ হয়েছে সেই বিচার চাই রাষ্ট্রের কাছে।’
প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, ‘এই জামিন দিয়ে কী হবে। এদেশে সব নাটকীয়তা।’
বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি।
২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটে মডেল থানায় ছাত্রজনতার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।
সবশেষ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে তার ও তার ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পরেও প্যারোলে মুক্তি না দেয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। পরে সোমবার আদালত তাকে জামিন দেন।
বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের আইনজীবী তাজিনুর রহমান পলাশ বলেন, ‘সাদ্দাম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আদালতে বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়েছেন। একটা মামলায় জামিন পেলে, তাকে আবার অন্য একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতো। সবশেষ চিতলমারীর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই মামলায়ও আজকে উচ্চ আদালত মানবিক বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৮টি মামলা রয়েছে।’


কোন মন্তব্য নেই